শিরোনামঃ
জয়নাল/আরাফাত সিন্ডিকেট গিলে ফেলেছে ইনানীর শত একর পাহাড়লামায় মৎস্য প্রকল্প থেকে ৫ লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগটেকনাফ পুলিশ-বিজিবি পৃথক অভিযানে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২জন নিহতলামায় এক নারীকে জবাই করে খুনদু’দিন বন্ধ থাকবে কলাতলীর মেরিন ড্রাইভের সংযোগ সড়কচট্টগ্রামে আগুনে পুড়ল দুই মার্কেটের ১৩০ দোকান“ফরিদ আহমেদ চৌধুরী ছিলেন একজন গুনি ও জাতীয় মাপের শিল্পী”টেকনাফে দুইদিনে পৃথক বন্দুকযুদ্ধে দুই রোহিঙ্গাসহ ৪ মাদককারবারি নিহত, ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধারকক্সবাজারে জাতির পিতার কনিষ্ঠপুত্র শেখ রাসেলের ৫৫তম জন্মবার্ষিকী পালিতটেকনাফে হোয়াইক্যংএর বাবুইল্যা ও বাহারছড়ার আজম উল্লাহ বন্দুকযুদ্ধে নিহত : সার্কেলসহ ৪ পুলিশ আহতমহেশখালীর ২’শ পরিবার বিদ্যুতে আলোকিতটেকনাফে নোহা গাড়ি আগুনে পুড়ে ছাঁইনাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই ইউপি সদস্যের সংঘর্ষে নিহত ১,আহত ৫টোকাইদের জোটে’ পরিণত হয়েছে ২০ দলীয় জোট!মেরিন ড্রাইভ সড়কের কলাতলীতে অবৈধ দেয়াল ভেঙ্গে দিয়েছে প্রশাসন
porno izle izmir escort sex hikaye
çorum sürücü kursu malatya reklam inönü üniversitesi taban puanları

শ্রদ্ধা, ভালোবাসায় সকল প্রবীণ ভালো থাকুক

20191001_094238.jpg

ফয়সল মাহমুদ সাকিব::আজকের নবীন আগামী দিনের প্রবীণ। বার্ধক্যের হাত থেকে বাঁচার কোন সাধ্য না থাকার পরও আমরা নিজের বার্ধক্য সম্পর্কে কেউ যেন জানতে চাই না, মানতে চাই না বা ভাবতে চাই না। পাশাপাশি প্রবীণদের আমরা কেউ বুঝতে চাই না, কাছে যেতে চাই না, তাদের সাথে সময় কাটাতে চাই না। প্রবীণদের কল্যানে আমরা কেউই তেমন কাজ করতে চাই না।
বর্তমানে আমাদের দেশে চাকরি হতে অবসর গ্রহণের বয়স ৫৯/৬০ বছর। আবার অন্য দিকে গবেষণায় দেখা যায় বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭০ বছর। পরিনত বয়সের মাঝখানের এই ১০-১১ বছর আমাদের দেশের অত্যন্ত মেধাবী, জ্ঞান দক্ষতা, অভিজ্ঞতা সম্পন্ন জনগোষ্ঠীর কর্মতৎপরতা ও তাদের অবদান হতে জাতি-দেশ বঞ্চিত হচ্ছে।
গ্রাম অঞ্চলের তুলনায় বাংলাদেশের শহর অঞ্চলের প্রবীণদের অবস্থা বেশি সুচনীয়। নগর জনপদের প্রবীণদের পক্ষে যানবাহনে চড়া,অফিস আদালতে যাওয়া, ব্যাংক হাসপাতালে যাওয়া-আসা, হাঁটা চলা করা, রাস্তা পার হওয়া, বাজার করা ও দৈনন্দিন কাজকর্মগুলো করা অত্যন্ত কষ্টকর ও ঝুকিপূর্ণ। প্রবীণদের প্রাপ্য অধিকার, চাহিদা ও সুযোগ সুবিধার কথা কেউ গুরুত্ব দেয় না। শহরাঞ্চলে যে সকল স্থাপনা এবং অবকাঠামো নির্মান করা হয়েছে বা হচ্ছে তা সবগুলো প্রবীণদের জীবন চলার সম্পূর্ণ বিপক্ষে।
জাতিসংঘের আহ্বানে ১৯৯১ সাল থেকে প্রতি বছরের ১ অক্টোবর বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল দেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গুরুত্বের সঙ্গে প্রবীণ দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। মানবাধিকার সর্ম্পকে জাতিসংঘে বক্তব্য পেশের জন্য ১৯৪৭ সালের জানুয়ারি মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কালিন ডি রুজভেেেল্টর স্ত্রী ও মানবতাবাদী নেত্রী এলিনর রুজভেল্টের সভাপতিত্বে মানবাধিকার সংক্রান্ত একটি কমিটি গঠিত হয়। প্রায় আড়াই বছরের অধিককাল পরিশ্রমের পর সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ দলিলটি জাতিসংঘ মানবাধিকার ঘোষণা হিসেবে প্রকাশ করে।
মানবাধিকার সম্পর্কে সার্বজনীন ঘোষণায় সংগঠন, প্রত্যক্ষভাবে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরকারের অংশগ্রহণ, সরকারি চাকরি লাভের ক্ষেত্রে সমানাধিকার, বিশ্রাম ও অবসর যাপনের অধিকার, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বাস্থ্য রক্ষার অধিকার, রোগ অক্ষমতা এবং বৃদ্ধ বয়স ও বৈষম্যে নিরাপত্তা এবং অভাব থেকে মুক্তির অধিকার স্বীকৃত হয়েছে।
জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ি, ৬০ বছর বয়সী মানুষকে প্রবীণ হিসেবে গণ্য করা হয়। বাংলাদেশ সরকার দেশের ৬০ বছর ও তার অধিক বয়সী নাগরিকদের জৈষ্ঠ নাগরিক বা সিনিয়র সিটিজেন ঘোষণা করে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। বিশ্বের উন্নত দেশ তো বটেই, উন্নয়নশীল অনেক দেশের সরকার ৬০ বছরের উপরের বয়সের নাগরিকদের জৈষ্ঠ নাগরিক বা সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে অনেক আগেই মর্যাদা দিয়েছেন, যাতে তাদের দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠী সম্মানের সাথে জীবন যাপন করতে পারেন।
বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রায় সবাই আজ প্রবীণ। প্রবীণদের স্বস্থি, স্বাচ্ছন্দ্য, স্বাধীনতা, আত্মতৃপ্তি, সেবা যতœ ও দেখা-ভাল করার বিষটি আজ খুবই ঝুকির সম্মুখীন। বর্তমান সময়ে স্বচ্ছল প্রবীণদের পরিচর্যার জন্যও পারিবারিক, পেশাদার অথবা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেবাদানকারী সহায়ক ব্যক্তি পাওয়া অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমাদের দেশের বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার যতেষ্ট প্রবীণ বান্ধব সরকার। ১৯২৫ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রবর্তিত পেনশন ব্যবস্থার ৭২ বছর পরে মানবতাবাদী রাজনীতিবিদ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরর্দশী উদ্যোগে ১৯৯৭ সালে চালু হয় বিশ্বনন্দিত বয়স্ক ভাতা কর্মসুচি। তাঁর সরকারের বদন্যতায় অনুমোদিত হয়েছে বহুল প্রতিক্ষিত “প্রবীণ বিষয়ক জাতীয় নীতিমালা ২০১৩” এবং “পিতা-মাতার ভরণ পোষণ আইন ২০১৩”। পাশাপাশি সমাজকল্যান মন্ত্রণালয়ের অধিনেগঠন করা হয়েছে “প্রবীণ উন্নয়ন ফাউন্ডেশন”। বরেণ্য অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলিকুজজমান আহমদের নেতৃত্বে “বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ”র মাধ্যমে সারা দেশ ব্যাপি প্রবীণ স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে কোটি কোটি টাকার বার্ষিক বরাদ্দ বৃদ্ধি প্রবীণ বান্ধব বর্তমান সরকারের দূরদর্শী চিন্তার ফলশ্রুতি।
সামাজিক সম্মানবোধ ও মানবিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে, করুণা করে নয় বরং শ্রদ্ধা মিশ্রিত ভালবাসা ও আর সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমেই পিতা-মাতার সকল সন্তান তথা দায়িত্বপ্রপ্তদের প্রবীণদের সেবায় নিজেদেরকে উৎসর্গ করতে হবে। শুধু অধিকারের প্রশ্নে নয়, বরং তাদের জীবনের শেষ ভাগ যেন সফল, সার্থক, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও প্রিয় আপনজনদের সান্নিধ্যে কাটে তা নিশ্চিত করতে হবে। এটা প্রবীণদের প্রতি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
সারা জীবনের পরিচিত পরিবার বর্তমান থাকার পরও যেন, কোন প্রবীণে জীবনের শেষ সময়টুকু পরিবারহীন বৃদ্ধাশ্রমে না কাটে। সে দিকে আমাদের নজর রাখতে হবে। আজ আমরা যাদের প্রবীণ বলছি, মনে রাখতে হবে তাদের মত আমরাও একদিন বার্ধক্যে প্রবেশ করব। আজকের সন্তান আগামী দিনের পিতা বা মাতা। বৃদ্ধাশ্রম যেন কোন বাবা মায়ের শেষ বয়সের ঠিকানা না হয়। অধিকার ও মর্যাদার ভিত্তিতে প্রবীণদের সমাজ বা পরিবারের বোঝা মনে না করে তাদেকে সাথে নিয়ে সুন্দর, গতিশীল সমাজ বির্নিমাণে তাঁদের পাশে রাখতে হবে।
বাংলাদেশ সরকার “পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩” প্রণয়ন করেছে। প্রবীণ ব্যক্তিরা এক সময় স্ব স্ব কর্মজীবনে অত্যন্ত উৎসাহ উদ্দীপনায় এবং আন্তরিকতার সাথে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে এবং দেশ গঠনে ভূমিকা রেখেছেন। জীবন সায়াহ্নে তাদের যথাযথ ভাবে দেখাশোনা এবং তাদের কল্যানে কাজ করার পদক্ষেপ গ্রহণ রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের অবশ্য কর্তব্য। পরিবারের একান্ত আপন প্রবীণ বাবা, মা, দাদা, দাদীদের প্রতি জানা-অজানায় প্রতিনিয়তই আমরা যে চরম বৈষম্য করে যাচ্ছি, এতে শুধু প্রবীণরাই বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন তা নয়। আমরাও বঞ্চিত হচ্ছি তাদের অতীত অভিজ্ঞতা ও সম্পৃক্ততার সুফল থেকে। প্রবীণদের প্রতি বৈষম্য দূর করতে সমাজ এবং পরিবারে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। প্রবীণদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমস্যাগুলো সমাধানের সবোর্”চ চেষ্টা করতে হবে।
প্রবীনদের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধির সাথে সাথে তাদের কাছ থেকে পাওয়া আন্তরিক ভালোবাসা প্রয়োজনের সময় তাদেরকেও প্রচলিত ধর্মীয় রীতি অনুসারে সমভাবে ফিরিয়ে দিতে হবে। তাদের স্বাস্থ্য, মানসিক ও পারিপার্শ্বিক বিষয়ের খবরাখবর রাখতে হবে। প্রবীণ মানুষগুলোর সুস্থ জীবন যাপনের জন্য তাদের বার্ধক্যকে সম্মানজনকভাবে কাটানোর ব্যবস্থা করা প্রতিটি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য হওয়া উচিত। পরিবারের সদস্যদের প্রতিদিনের কিছুটা সময় প্রবীণদের জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে। তাদের যুক্তিপূর্ণ কথাগুলো মনযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং কথাগুলোর প্রধান্য দিতে হবে। আমৃত্যু প্রবীণদের জীবন শ্রদ্ধা, ভালোবাসায় ভরিয়ে তুলতে হবে। আমি সবিনয়ে নিবেদন করছি, আপনিও শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, সেবা শশ্রুশায় বাংলাদেশের সকল প্রবীণদের ভালো রাখবেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবীণ কবিতার চরণ দিয়ে শেষ করতে চাই-ওগো প্রবীণ, চলো এবার সকল কাজের শেষে, নবীন হাসি মুখে নিয়ে চরম খেলার বেশে।

লেখকঃ সাংস্কৃতিক ও উন্নয়ন কর্মী।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top
alsancak escort bornova escort gaziemir escort izmir escort buca escort karsiyaka escort cesme escort ucyol escort gaziemir escort mavisehir escort buca escort izmir escort alsancak escort manisa escort buca escort buca escort bornova escort gaziemir escort alsancak escort karsiyaka escort bornova escort gaziemir escort buca escort porno