শিরোনামঃ
ফটিকছড়িতে অস্ত্রসহ গ্রেফতার ২জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে শুভ সূচনা বাংলাদেশেরটেকনাফে গাছ চাপায় শ্রমিকের মৃত্যুমালুমঘাট খ্রীস্টান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক রাশেদ শঙ্কামুক্ত নয়সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে-হাজী বশিরচকরিয়ায় বৌদ্ধ ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টি সম্প্রদায়ের ৫১৭ পরিবার পেল প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা উপহার১লক্ষ ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী আটকহিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চকরিয়া পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কমিটি গঠিতব্যারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাচকরিয়ায় ৪৮ ঘন্টার মধ্যে উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের পুরনো কমিটি পূণ:বহালপ্রাবরণা পূর্ণিমা উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেনকক্সবাজার সদর থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার- ১১মন্ত্রীর উপস্থিতিতে মহেশখালীতে ৪৩ জলদস্যুের আত্মসমর্পণআজকের রেসিপি ‘মিটলোফ উইথ চিজি পটেটো’

কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারে পরিবেশ তহবিলের দাবি

download-2.jpeg

অনলাইন ডেস্ক||কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সম্পদের স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যাবার আগেই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দ্রুত প্রত্যাবাসন, পুনর্বন্টন ও ঘনত্ব হ্রাস করার দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজ ও বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক প্রতিবেশে ইতিমধ্যে ঘটে যাওয়া ক্ষতি পুনরুদ্ধারের জন্য একটি পৃথক পরিবেশ তহবিল গঠনেরও দাবি জানান তারা।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সুশীল সমাজ ও বিশেষজ্ঞরা এসব দাবি জানান। কোস্ট ট্রাস্ট ও সিসিএনএফ (কক্সবাজার সিএসও এনজিও ফোরাম) যৌথভাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহি পরিচালক ও সিসিএনএফের কোচেয়ার রেজাউল করিম চৌধুরী।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং বিসিএএস (বাংলাদেশ সেন্টার ফর এডভান্সড স্টাডিজ) নির্বাহী পরিচালক ড. আতিক রহমান বিশেষজ্ঞ মতামত ব্যক্ত করেন। কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক বরকত উল্লাহ মারুফ সম্প্রতি কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উপর রোহিঙ্গা শরণার্থী ঢলের প্রভাব বিষয়ে পরিচালিত গবেষণায় প্রাপ্ত পরিবেশ, পানি, দূষণ ও জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করেন।

এছাড়া কক্সবাজারের ভূগর্ভস্থ পানি বিষয়ে পরিচালিত একটি গবেষণার তথ্য নিয়ে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কক্সবাজার সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী।
মূল বক্তব্য উপস্থাপনে বরকত উল্লাহ মারুফ বলেন, ‘শরনার্থী ক্যাম্পে প্রতিদিন ২ হাজার ২৫০ টন জ্বালানি কাঠ পোড়ানো হচ্ছে শুধু প্রতিদিনকার রান্নার জন্য এবং এই কাঠ জোগাড় করা হচ্ছে পাশ্ববর্তী বন থেকে। এভাবে চললে ২০১৯ সালের মধ্যে উখিয়ার সম্পূর্ণ বন উজাড় হয়ে যাবে।
১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর দৈনন্দিন জীবন যাপনের ফলে উপজেলা দুটির ২১টি খাল ও ছড়া সম্পূর্ণ দূষিত হয়ে গেছে, যার উপর কৃষি ও গৃহস্থালি কাজে স্থানীয় মানুষ নির্ভরশীল।’

উখিয়ার ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীরা শরণার্থী ক্যাম্প থেকে প্রতি মাসে ১০০ টন করে বিক্রয়যোগ্য বর্জ আহরণ করছে, তবে প্লাস্টিকের প্যাকেট ও পলিথিন বাদে। পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ এসব পরিস্থিতি সামাল দিতে মারুফ ৭টি সুপারিশ উপস্থাপন করেন।

১) রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করে তাদের দ্রæত প্রত্যাবাসন অথবা অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে, ক্যাম্পে জনসংখ্যার ঘনত্ব কমাতে হবে।

২) রোহিঙ্গা ত্রাণের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে বরাদ্দ তহবিল থেকে কক্সবাজারে ইতমধ্যে সাধিত পরিবেশের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পৃথক একটি পরিবেশ তহবিল গঠন করতে হবে।

৩) অবিলম্বে ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের রান্নার জন্য বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ করতে হবে।

৪) ভূ-উপরিস্থিত পানির ব্যবহার বাড়াতে উখিয়া ও টেকনাফের সকল খাল ও ছড়ায় প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে এবং পানির সংরক্ষণ বাড়াতে পর্যাপ্ত পুকুর পুনর্খনন করতে হবে।

৫) উখিয়া ও টেকনাফের ভূ-গর্ভস্থ পানির সংকট বিবেচনায় নিয়ে তার সীমিত উত্তোলনের ব্যাপারে নীতিমালা করতে হবে।

৬) এই বর্ষায় উখিয়া ও টেকনাফসহ পুরো কক্সবাজারে সরকারী, বেসরকারী ও দাতা সংস্থার উদ্যোগে ব্যাপক বৃক্ষরোপন ও বনায়ন করতে হবে।

৭) স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে সমন্বিত দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে, যেমন: সকল বিদ্যালয় ভবন ঘুর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার উপযোগী করে নির্মাণ করা।

ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, ‘গত কয়েক দশক ধরে কক্সবাজারের ভূগর্ভস্থ পানি নগরায়ন ও অতি পর্যটকের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহর ও জেলার অন্যান্য স্থানে পরিচালিত হাইড্রো-জিওলজিক্যাল গবেষণায় ভূ-গর্ভস্থ পানিতে কিছু তেজষ্ক্রিয় মৌল যেমন ইউরেয়িাম, থোরিয়াম,মোনাজাইট ও জিরকন ইত্যাদির অস্তিত্ব গ্রহনযোগ্য পরিমাণের বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গত একুশ বছরে ভূ-উপরিস্থিত মিঠা পানির আধার ও জলাশয় হ্রাস পেয়েছে ৬৩% অন্যদিকে আবাস ও নগরায়ন বেড়েছে ২৪৬%।’ তিনি ভূ-উপরিস্থিত জলাধারের সংস্কার ও সমুদ্রের পানি থেকে লবণমুক্ত পানযোগ্য পানির প্ল্যান্ট বসানোর জন্য সুপারিশ করেন।
ড. আতিক রহমান বলেন, ‘বন মানেই কেবল কিছু গাছ নয়। বন মানে অনেকগুলো প্রাণ ও প্রতিবেশের সমাহার এবং একবার এই প্রতিবেশ হারিয়ে ফেললে তা গাছ লাগিয়ে পূরণ করা যায় না।

তিনি বলেন,‘আমরা কক্সবাজারে এখন একটি জরুরি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি এবং সেখানে যে ধরনের উন্নয়ন উদ্যোগই গ্রহন করা হোক না কেন, ১ মিলিয়ন রোহিঙ্গা ও স্থানীয় অধিবাসীদের হিসেবে ধরেই আমাদের এগোতে হবে।’
রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘দশ লক্ষ রোহিঙ্গা শরনার্থী বাস করছে পলিথিনের আচ্ছাদনের নিচে। এই প্রচণ্ড গরমে প্লাস্টিকের তাবুর মধ্যে থাকাটাই একটা দুর্যোগ এবং একারণে তারা ক্রমাগত অসুখে ভুগছে।’

Leave a Reply

Top